কামিল হাদিস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কামিল হাদিস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কামিল তাফসির বিভাগের মৌখিক ভাইভা প্রশ্ন ও উত্তর (পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য)

✍️ কামিল তাফসির বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য মৌখিক ভাইভা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা তাদের জ্ঞান, বোধ এবং ব্যাখ্যাগত সক্ষমতার মূল্যায়ন করে। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদেরকে তাফসির, উলূমুল কুরআন, আরবি ভাষা ও ব্যাখ্যাবিদ্যার বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এই সংকলনে সম্ভাব্য কিছু মৌখিক ভাইভা প্রশ্ন এবং তাদের সংক্ষিপ্ত উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে প্রস্তুতি নিতে পারে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। নিচে কয়েকটি কমন ভাইভা প্রশ্ন এবং উত্তর লেখা হলো আশাকরি এতে কামিল তাফসির বিভাগের ছাত্র ছাত্রীদের উপকারে আসবে । 


১. তাফসির শব্দের অর্থ কী? 
উত্তর: তাফসির শব্দটি আরবি "فسر" মূল ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ করা। ইসলামী পরিভাষায় তাফসির বলতে কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ বোঝানো হয়।

২. তাওয়ীল ও তাফসিরের পার্থক্য কী?
উত্তর: তাফসির: আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ ব্যাখ্যা করা।
তাওয়ীল: আয়াতের গোপন বা আভ্যন্তরীণ অর্থ ব্যাখ্যা করা।

৩. তাফসিরের প্রধান কত প্রকার?
উত্তর: প্রধানত দুই প্রকার:
১. তাফসির বিল মাসূর (নকলভিত্তিক)
২. তাফসির বির্ রাই (ব্যক্তিগত মতভিত্তিক)

৪. তাফসির বিল মাসূর কাকে বলে?
উত্তর: সাহাবা, তাবেয়িন এবং প্রাথমিক যুগের উলামাগণের বর্ণনার ভিত্তিতে কুরআনের ব্যাখ্যা করাকে তাফসির বিল মাসূর বলে।

৫. তাফসির বির্ রাই কী?
উত্তর: নিজস্ব জ্ঞান, যুক্তি ও ইজতিহাদ দিয়ে কুরআনের ব্যাখ্যা করাকে তাফসির বির্ রাই বলে, তবে তা শরিয়তের মূলনীতির পরিপন্থী হওয়া চলবে না।

৬. প্রথম তাফসির লেখক কে?
উত্তর: সর্বপ্রথম তাফসিরকার হিসেবে ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে ধরা হয়। তবে গ্রন্থাকারে প্রথম তাফসির লেখেন ইমাম মুজাহিদ ইবনে জাবির।

৭. তাফসিরে কুরতুবীর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: ইমাম কুরতুবীর তাফসির "আল-জামি লি আহকামিল কুরআন" নামক তাফসিরটি আহকামি (বিধি-বিধানভিত্তিক) তাফসির। এতে কুরআনের আইনগত দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

৮. তাফসিরে জালালাইন কারা লিখেছেন?
উত্তর: ইমাম জালালুদ্দীন মাহালি এবং তাঁর ছাত্র ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী।

৯. তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন কার লেখা?
উত্তর: পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মুফতী মুহাম্মদ শাফী (রহঃ)।

১০. তাফসিরে ইবনে কাসীর-এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এটি একটি প্রামাণ্য তাফসির, যেখানে কুরআন, হাদীস, সাহাবা ও তাবেয়িনের বক্তব্য দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১১. তাফসির লেখার উৎসসমূহ কী কী?
উত্তর: তাফসীরের উৎস সমূহ বেশ কয়েকটি, যেমন--
১. কুরআন দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা
২. হাদীস
৩. সাহাবাগণের বর্ণনা
৪. তাবেয়িনদের মতামত
৬. ভাষা ও সাহিত্য
৬. যুক্তি ও কিয়াস

১২. নাসিখ ও মানসুখ কী?
উত্তর: 
নাসিখ: যে আয়াত দ্বারা পূর্বের কোনো হুকুম রহিত হয়।
মানসুখ: যে হুকুম রহিত হয়।

১৩. মাক্কী ও মাদানী সূরার পার্থক্য কী?
উত্তর: মাক্কী সূরা: হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ।
মাদানী সূরা: হিজরতের পরে অবতীর্ণ।

১৪. মুজমাল ও মুফাস্সাল কী?
উত্তর: মুজমাল: সংক্ষিপ্তভাবে ইঙ্গিতপূর্ণ আয়াত।
মুফাস্সাল: বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ আয়াত।

১৫. মুহ্কাম ও মুতাাশাবিহ কাকে বলে?
উত্তর: মুহ্কাম: পরিষ্কার অর্থবিশিষ্ট আয়াত।
মুতাাশাবিহ: অর্থ পরিষ্কার নয়, একাধিক ব্যাখ্যা সম্ভব।

১৬. কুরআনে তাফসিরের জন্য কত রকমের জ্ঞান প্রয়োজন?
উত্তর: কমপক্ষে ১৫-২০টি শাস্ত্র যেমন নাহু, সরফ, বালাগাত, হাদীস, ফিকহ, উসুল, আসবাবে নুযূল ইত্যাদি।

১৭. আসবাবে নুযূল বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পেছনের কারণ বা ঘটনা।

১৮. সাহাবাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি তাফসির করেছেন?
উত্তর: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)।

১৯. তাফসিরে রাযী এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এটি যুক্তিভিত্তিক তাফসির। ইমাম ফখরুদ্দীন রাযীর লেখা "তাফসিরে কবীর" তাফসির রাযী নামেও পরিচিত।

২০. বাংলা ভাষায় প্রণীত প্রথম তাফসিরগ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: "তাফসিরে মাযহারি" (আংশিক অনুবাদ), তবে পূর্ণাঙ্গ তাফসির হিসেবে মাওলানা আকরম খাঁ-এর "তাফসিরে আকরামী" উল্লেখযোগ্য। 

💌 তাফসির বিভাগের মৌখিক ভাইভা একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও ধর্মীয় ভাবনার পরিপক্বতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রশ্নোত্তরগুলো আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। যথাযথ অধ্যয়ন, মনোযোগ এবং আত্মপ্রত্যয়ের মাধ্যমে এই ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব—আল্লাহর সাহায্য সর্বদা কাম্য। 

⚠️ Warning ⚠️
© 2025 নব দিগন্ত প্রো – সকল অধিকার সংরক্ষিত

এই ব্লগের সকল লেখা, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য উপাদান বাংলাদেশের "কপিরাইট আইন, ২০০০" (সংশোধনীসহ) অনুযায়ী সংরক্ষিত । 
স্বত্বাধিকারীর পূর্বানুমতি ব্যতীত এই ব্লগের কোনো কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি, পুনঃপ্রকাশ, সংরক্ষণ, অনুবাদ, বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
যেকোনো কনটেন্ট শেয়ার করতে চাইলে মূল লিংকসহ উল্লেখ করুন এবং অনুমতির জন্য নিচের ইমেইলে যোগাযোগ করুন।
যোগাযোগ: sharifulislamjr1@gmail.com

কামিল স্নাতকোত্তর হাদিস প্রথম পর্বের পঞ্চম পত্রের (৬১১১০৫) এসাইনমেন্ট

কামিল স্নাতকোত্তর হাদিস প্রথম পর্বের পঞ্চম পত্রের (৬১১১০৫) এসাইনমেন্ট 

হাদিস বিভাগ

বিষয় কোডঃ ৬১১১০৫

কোর্স কোড ও পত্র শিরোনাম: ৬১১১০৫, মুস্তালাহুল হাদিস ও মানাহিজুল মুহাদ্দিসিন

এসাইনমেন্টের বিষয়ঃ ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি এর জীবনী ও তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সম্পর্কে আলোচনা কর। তার বিখ্যাত কিতাব নুজহাতুন নাজরী ফী তাওদিহি নুখবাতিল ফিকরি ফী মুস্তালাহি আহলিল আছার সম্পর্কে আলোচনা কর।.

ভূমিকাঃ ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের এক মহান ইমাম, গবেষক, সমালোচক ও লেখক। তাঁকে “হাফিজুল আসর” (তার যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ হাদীসবিশারদ) বলা হয়। তাঁর রচনাবলি ও বিদ্বতা ইসলামী বিশ্বে অনন্য মর্যাদা লাভ করেছে, বিশেষ করে সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "ফাতহুল বারী" এর জন্য তিনি অমর হয়ে আছেন।

ইমাম হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এর জীবনী

🔹 পূর্ণ নাম:

আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাজার আল-কিনানী আল-আসকালানী

"আসকালানী" উপাধি এসেছে ফিলিস্তিনের আসকালান শহর থেকে, যা তাঁর পূর্বপুরুষের নিবাস।

🔹 জন্ম:

·        ৭৭৩ হিজরি / ১৩৭২ খ্রিষ্টাব্দ

·        জন্মস্থান: কায়রো, মিশর

🔹 মৃত্যু:

·        ৮৫২ হিজরি / ১৪৪৯ খ্রিষ্টাব্দ

·        মৃত্যুস্থান: কায়রো, মিশর

·        জানাজা নামাজে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 তাঁর ইলমী জীবন

🔹 শৈশব:

·        অল্প বয়সেই পিতা-মাতা উভয়কে হারান। এরপর আলিম ও সম্ভ্রান্ত পরিবেশে লালিত হন।

🔹 ইলম অর্জনের ভ্রমণ:

·        মিসর, হিজায (মক্কা-মদীনা), শাম (সিরিয়া), ইয়েমেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করে ইলম অর্জন করেন।

🔹 বিশেষত্ব:

·        তিনি ছিলেন একজন হাফিজুল হাদীস (২ লাখেরও বেশি হাদীস মুখস্থ রাখতেন)।

·        ইবনে তাইমিয়াহ, ইমাম নববী, ইবনে আবদুল বার ইত্যাদি পূর্ববর্তী আলিমদের কৃতিত্বের উত্তরাধিকার হিসেবে তিনি বহু রচনাকর্ম করেছেন।

🔹 প্রসিদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ

1.   আল-ইরাকী (হাফিজ আল-ইরাকী) – হাদীস শাস্ত্রে তাঁর মূল শিক্ষক

2.   আল-বুলকিনী – ফিকহ শাস্ত্রে ও তাফসিরে

3.   ইবনে জামাআ

4.   ইবনে মালাক

5.   আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের ব্যাখ্যাকার ইমাম শাবিলী প্রমুখ

🔹 প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ

1.   ইমাম সাখাওয়ী (রহ.) – তাঁর জীবনীকার এবং হাদীসের মাস্টার

2.   ইবনে তাগরবর্দী – ইতিহাসবিদ

3.   আস-সুয়ূতী (রহ.) – বিখ্যাত আলেম ও লেখক

4.   আল-আইনি – ফাতহুল বারী-র সমসাময়িক ব্যাখ্যাকার

5.   আল-কাসতালানী – সহীহ বুখারীর আরও এক ব্যাখ্যাকার

নুযহাতুন নাজরী ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার সম্পর্কে আলোচনা:

🔹 পরিচিতি:

·        এটি হাদীস শাস্ত্রের মুস্তালাহুল হাদীস (হাদীসের পরিভাষা ও শ্রেণিবিন্যাস) বিষয়ক একটি বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

·        মূল কিতাব: نُخْبَةُ الْفِكَر فِي مُصْطَلَحِ أَهْلِ الأَثَر – সংক্ষিপ্ত কিতাব

·        ব্যাখ্যা: نُزْهَةُ النَّظَر فِي تَوْضِيحِ نُخْبَةِ الْفِكَر

🔹 কিতাবের উদ্দেশ্য:

·        হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা যেমন – সহীহ, হাসান, যইফ, মুরসাল, মুআল্লাক, মাওকূফ, মুন্সালিখ ইত্যাদি শ্রেণীবিন্যাস সহজভাবে বুঝানো।

🔹 বৈশিষ্ট্যাবলী:

1.    সাঙ্কেতিক ভাষায় সংক্ষিপ্ত মূল কিতাব এবং ব্যাখ্যা সহ সহজ বিশ্লেষণ।

2.    সহীহ হাদীসের শর্ত ব্যাখ্যা করা হয়েছে (ইত্তিসালুস সানাদ, আদল, যবত ইত্যাদি)।

3.    রাবীর ধরণ, সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

4.    হাদীসের বিভাজন ও মান নির্ধারণে কুরআন-সুন্নাহর সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাখ্যা।

5.    শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী ভাষা ও বিন্যাস।

সমাপনীঃ হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ছিলেন ইসলামী জ্ঞানের এক জ্যোতিষ্ক যিনি হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ, রাবীবিজ্ঞান, ইতিহাস এবং আকীদা শাস্ত্রে চিরস্থায়ী অবদান রেখে গেছেন। তাঁর কিতাব নুযহাতুন নাযর হাদীস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাইলফলক, যা মুসলিম জ্ঞানবিশ্বে যুগ যুগ ধরে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বিঃদ্রঃ

বিঃদ্রঃ অ্যাসাইনমেন্ট টির তথ্য সংগ্রহ করতে আমি ইন্টারনেট ও চ্যাট GPT এর সাহায্য নিয়েছি । হাদিস বিভাগের ৬ষ্ঠ পত্র অর্থাৎ ৬১১১০৬, আত তারিখুল ইসলামী ওয়া তারিখু ইলমিল হাদিস এর এসাইনমেন্টের কাজ চলছে, কিছুক্ষণ পরেই ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন। সাথেই থাকুন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ

লেখা ও সম্পাদনাঃ শরিফুল ইসলাম

ফেসবুকঃ https://www.facebook.com/share/16FEEegTct/


কামিল স্নাতকোত্তর হাদিস প্রথম পর্বের চতুর্থ পত্রের (৬১১১০৪) এসাইনমেন্ট

কামিল স্নাতকোত্তর হাদিস প্রথম পর্বের চতুর্থ পত্রের (৬১১১০৪) এসাইনমেন্ট 

হাদিস বিভাগ

বিষয় কোডঃ ৬১১১০৪

কোর্স কোড ও পত্র শিরোনাম: ৬১১১০৪, শারহু মানিল আছার লিলি ইমাম আত তাহাভী

এসাইনমেন্টের বিষয়ঃ ইমাম তাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর জীবনী ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান তুলে ধরো। হাদিস শাস্ত্রে শারহু মানিল আছার এর বৈশিষ্ট্যাবলী আলোচনা কর এবং হাদিস শাস্ত্রে এর অবস্থান পর্যালোচনা কর। 

ভূমিকাঃ ইমাম আবু জাফর তাহাবী (রহ.) ছিলেন ইসলামি ইতিহাসের একজন খ্যাতিমান ফকীহ, মুহাদ্দিস ও আকীদা-বিশারদ। তিনি হাদীস, ফিকহ ও আকীদা শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন এবং বিশেষভাবে হানাফি মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকারক হিসেবে পরিচিত। তাঁর নাম ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তাঁর জ্ঞান, যুক্তিবাদী বিশ্লেষণ এবং লেখনীর মাধ্যমে।

ইমাম তাহাবী (রহ.) এর জীবনী

🔹 পূর্ণ নাম:

আবু জাফর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সালামা ইবনু আবদুল মালিক আত্-তাহাবী আল-মিসরী

🔹 জন্ম:

২৩৯ হিজরি / ৮৫৩ খ্রিস্টাব্দ

জন্মস্থান: তাহা নামক একটি গ্রাম, যা ঈয়ূব এলাকার অন্তর্গত (মিশরের নিকটবর্তী)

🔹 মৃত্যু:

৩২১ হিজরি / ৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ

মৃত্যুস্থান: মিসর

🔹 পারিবারিক পরিচয়:

তিনি প্রথমে শাফেয়ি মাযহাব অনুসরণ করতেন, পরবর্তীতে নিজের মামা ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া আল-মুজানি (ইমাম শাফেয়ি র. এর একজন শিষ্য)–এর মাধ্যমে হানাফি মাযহাবে প্রবেশ করেন।

 

হাদিস শাস্ত্রে ইমাম তাহাবীর অবদান

🔹 হাদিস ও ফিকহের সমন্বয়কারী:

·        ইমাম তাহাবী হাদিস সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পাশাপাশি হানাফি মাযহাবের ফিকহি অবস্থান হাদিসের আলোকে উপস্থাপন করেন।

🔹 অসংখ্য ইলমী গ্রন্থ রচনা:

·        তাঁর লেখাগুলোতে হাদিস বিশ্লেষণ, রাবিদের মান নির্ধারণ, মতভেদ ব্যাখ্যা ইত্যাদির নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায়।

🔹 হানাফি মতবাদের দলীলভিত্তিক ব্যাখ্যা:

·        হানাফি মাযহাবের বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের আপাতদৃষ্টিতে শক্তিশালী দলিলসমূহের জবাব দিয়েছেন অত্যন্ত যুক্তিবাদী ও হাদিসনির্ভর পদ্ধতিতে।

শারহু মা‘আনিল আছার-এর বৈশিষ্ট্যাবলী

১. বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস:

·        গ্রন্থটি ফিকহি মাসায়েল অনুযায়ী সাজানো, যেমন—তাহারা, সালাত, রোজা, হজ্জ, বিয়ে, তালাক ইত্যাদি।

২. মতভেদ ও দলিলের তুলনামূলক আলোচনা:

·        হাদিসের মাঝে মতভেদ হলে ইমাম তাহাবী উভয় দিকের দলিল উল্লেখ করে হানাফি মাযহাবের দৃষ্টিকোণ বিশ্লেষণ করেছেন।

৩. রাবী বিশ্লেষণ:

·        গ্রন্থে হাদিস বর্ণনাকারীদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।

৪. ফিকহ ও হাদিসের সেতুবন্ধন:

·        শারহু মা‘আনিল আছার এমন একটি গ্রন্থ যা হাদিস থেকে সরাসরি ফিকহি আহকাম ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।

৫. বিশুদ্ধতা ও গভীরতা:

·        ইমাম তাহাবী কঠোর বাছ-বিচার করে হাদিস নির্বাচন করেছেন এবং সহীহ বা দুর্বলতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

 

সমাপনীঃ ইমাম আবু জাফর তাহাবী (রহ.) ছিলেন এমন এক মুহাদ্দিস ও ফকীহ যিনি হাদিস ও ফিকহকে একত্রে বিশ্লেষণ করে ইসলামী শরিয়াহর একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর "শারহু মা'আনিল আছার" কিতাবটি হাদিসভিত্তিক ফিকহ চর্চার অন্যতম মূল ভিত্তি। এটি শুধু হানাফিদের নয়, বরং সকল মাযহাবের অনুসারীদের জন্যও একটি দরকারি ও মূল্যবান কিতাব।

বিঃদ্রঃ

বিঃদ্রঃ অ্যাসাইনমেন্ট টির তথ্য সংগ্রহ করতে আমি ইন্টারনেট ও চ্যাট GPT এর সাহায্য নিয়েছি । হাদিস বিভাগের পঞ্চম পত্র অর্থাৎ ৬১১১০৫, মুস্তালাহুল হাদিস ও মানাহিজুল মুহাদ্দিসিন এর এসাইনমেন্টের কাজ চলছে, কিছুক্ষণ পরেই ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন। সাথেই থাকুন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ


লেখা ও সম্পাদনাঃ শরিফুল ইসলাম

ফেসবুকঃ Shariful Islam

কামিল স্নাতকোত্তর হাদিস প্রথম পর্বের ৩য় পত্রের ৬১১১০৩ এসাইনমেন্ট

কামিল স্নাতকোত্তর হাদিস প্রথম পর্বের ৩য় পত্রের

 (৬১১১০৩) এসাইনমেন্ট 

হাদিস বিভাগ

বিষয় কোডঃ ৬১১১০৩

কোর্স কোড ও পত্র শিরোনাম: ৬১১১০৩, আস সুনানু লিল ইমাম ইবনু মাজাহ

এসাইনমেন্টের বিষয়ঃ ইমাম ইবনে মাজাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর জীবনী ও হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অবদান আলোচনা পূর্বক তাঁর ছাত্রবৃন্দ ও শিক্ষকদের সম্পর্কে আলোচনা কর।

ভূমিকাঃ ইমাম ইবনে মাজাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগের একজন স্বনামধন্য মুহাদ্দিস হাদিস সংকলক। তিনি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ "সুনান ইবনে মাজাহ" এর সংকলক, যা কুতুব সিত্তাহ (হাদিসের ছয়টি মূলগ্রন্থ)- অন্যতম। নিচে তাঁর জীবনী, হাদিস শাস্ত্রে অবদান, শিক্ষাগুরু ছাত্রদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

 ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) এর জীবনী

🔹 পূর্ণ নাম:

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াজীদ ইবনু মাজাহ আল-কুজ্বাইনী

·        "মাজাহ" ছিল তাঁর পিতার নাম বা উপনাম।

·        "আল-কুজ্বাইনী" বলা হয় কারণ তিনি কুজ্বাইন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমান ইরানের ক্বাজভিন শহর)

🔹 জন্ম:

·        ২০৯ হিজরি / ৮২৪ খ্রিস্টাব্দ

·        জন্মস্থান: কুজ্বাইন, পারস্য (বর্তমান ইরান)

🔹 মৃত্যু:

·        ২৭৩ হিজরি / ৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ

·        মৃত্যুকালীন বয়স: আনুমানিক ৬৪ বছর

·        মৃত্যুস্থান: কুজ্বাইন

🔹 শিক্ষা সফর:

·        ইলমে হাদিস অন্যান্য ইসলামি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি ভ্রমণ করেন:

o   হিজাজ (মক্কা-মদিনা)

o   মিসর

o   শাম (সিরিয়া)

o   ইরাক (বসরা, কুফা, বাগদাদ)

o   খুরাসান

·        সব জায়গা থেকে তিনি হাদিস সংগ্রহ করেন এবং মুহাদ্দিসদের সংস্পর্শে আসেন।

🔹 উস্তাদবৃন্দ (শিক্ষক):

·        হিশাম ইবনু আম্মার

·        ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ

·        ইবনে আবি শাইবা

·        আব্দুর রহমান ইবনু সালাম

·        ইসহাক ইবনু মানসুর প্রমুখ।

🔹 ছাত্রবৃন্দ:

·        আবু বকর ইবনু খলাদ

·        ইবনে ছাবুরা

·        ইবনে সীন্দী

·        মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা প্রমুখ।

 একটি বিখ্যাত গ্রন্থ যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ এর চরিত্র, চেহারা, চাল-চলন, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, কথাবার্তা, আচার-আচরণসহ ব্যক্তিত্বের যাবতীয় দিক সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান

. সুনান ইবনে মাজাহ গ্রন্থ সংকলন:

·        এটি হাদিসের ছয়টি মৌলিক কিতাবের একটি (কুতুব সিত্তাহ)

·        এতে প্রায় ৪৩৪১টি হাদিস রয়েছে।

·        তিনি ফিকহভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাসে হাদিসগুলো সাজিয়েছেন, যেমন: সালাত, রোজা, যাকাত, হজ্জ, বিবাহ, যুদ্ধ, কিয়ামত ইত্যাদি ।

. হাদিস সংগ্রহে সফর:

·        ইমাম ইবনে মাজাহ হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে সফর করেছেনযেমন: মক্কা, মদিনা, মিসর, শাম (সিরিয়া), খুরাসান, বসরা, কুফা, বাগদাদ।

. হাদিসের মানের বিশ্লেষণ:

·        তাঁর সংকলিত হাদিসের মধ্যে কিছু দুর্বল (ضعيف) রাবীর হাদিসও আছে, তাই সমালোচকরা কিছুটা সমালোচনা করলেও, বহু মূল্যবান সহিহ হাদিসও তাঁর গ্রন্থে সংরক্ষিত রয়েছে।

. ইতিহাস তাফসিরে অবদান:

·        হাদিস ছাড়াও তিনি ইতিহাস তাফসির বিষয়ে বই লিখেছেন বলে ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন (যদিও তা বর্তমানকালে পাওয়া যায় না)

  শিক্ষক (উস্তাদবৃন্দ)

ইমাম ইবনে মাজাহ বিভিন্ন বিখ্যাত মুহাদ্দিসদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

1.     ইবনে আবি শাইবা

2.     হিশাম ইবনু আম্মার

3.     আলী ইবনু মুহাম্মাদ তানিসী

4.     ইবনে নামীর

5.     ইসহাক ইবনু রহুয়াইহ

তাঁর শিক্ষাগুরুদের মাধ্যমে তিনি ইমাম মালিক, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল এবং অন্যান্য বড় বড় মুহাদ্দিসদের ইলমের ধারা গ্রহণ করেন।

 শিক্ষার্থীরা (ছাত্রবৃন্দ)

ইমাম ইবনে মাজাহের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এমন বহু ছাত্র ছিলেন, যারা পরবর্তীতে হাদিস প্রচারে ভূমিকা রাখেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন উল্লেখযোগ্য:

1.     আবু বকর ইবনু খলাদ

2.     মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা

3.     ইবনু ছিনদী

4.     ইবনু ছাবুরা

তাঁদের মাধ্যমেই তাঁর সংকলিত হাদিস বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচারিত হয়।

সমাপনীঃ ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মুহাদ্দিস যিনি হাদিস সংগ্রহ সংকলনে অসাধারণ শ্রম নিষ্ঠা দেখিয়েছেন। তাঁর সুনান ইবনে মাজাহ কিতাবটি ইসলামী শরিয়তের বিশাল ঐতিহ্যের অংশ। যদিও এতে কিছু দুর্বল হাদিস রয়েছে, তবুও তাঁর অবদান হাদিস শাস্ত্রে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়।

বিঃদ্রঃ

বিঃদ্রঃ অ্যাসাইনমেন্ট টির তথ্য সংগ্রহ করতে আমি ইন্টারনেট ও চ্যাট GPT এর সাহায্য নিয়েছি । হাদিস বিভাগের চতুর্থ পত্র অর্থাৎ শারহু মা'নিল আছার লিলি ইমাম আত তাহাভী এর এসাইনমেন্টের কাজ চলছে, রাতেই ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন । সাথেই থাকুন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ

লেখা ও সম্পাদনাঃ শরিফুল ইসলাম

ফেসবুকঃ Shariful Islam


You can read more

সেক্স ও সফলতা একসাথে আসে না

সে*ক্স ও সফলতা একসাথে চলে না।  তাই কোন অসংযত পুরুষ কখনোই মহান হতে পারে না"।‼️ কিছু পুরুষ সফলতার স্বপ্ন দেখে। কিছু পুরুষ সফলতার জন্য পরি...

Popular Post