কামিল স্নাতকোত্তর হাদিস প্রথম পর্বের সপ্তম পত্রের (৬১১১০৭) এসাইনমেন্ট
হাদিস বিভাগ
বিষয় কোডঃ ৬১১১০৭
কোর্স কোড ও পত্র শিরোনাম: ৬১১১০৭, দিরাসাতুত তাফসির ওয়া উছুলুহু
এসাইনমেন্টের বিষয়ঃ আল্লামা জারুল্লাহ জামাখশারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর জীবনী ও তাঁর বিখ্যাত কিতাব তাফসিরে কাশশাফ সম্পর্কে আলোচনা কর।.
⌂ ভূমিকা: আল্লামা জারুল্লাহ জামাখশারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম: ৪৬৭ হিজরি / ১০৭৪ খ্রিস্টাব্দ, মৃত্যু: ৫৩৮ হিজরি / ১১৪৪ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন ইসলামী জগতে একজন শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ, তাফসিরকার, সাহিত্যিক ও যুক্তিবিদ। তিনি মূলত খারিজি মুতাযিলা মতবাদের অনুসারী ছিলেন, তবে তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও সাহিত্যিক কৌশল সকল মতাবলম্বী আলেমগণের কাছেই প্রশংসিত।
⌂
জীবনী সংক্ষেপ:
নাম:
আবুল কাশিম মাহমুদ ইবন উমার ইবন মুহাম্মাদ আল-খওয়ারিজমী আল-জামাখশারী
উপাধি: جار الله (জারুল্লাহ – “আল্লাহর প্রতিবেশী”)
জন্মস্থান: জামাখশার, খোয়ারিজম (বর্তমান উজবেকিস্তান)
মতবাদ: মুতাযিলা (একটি র্যাশনালিস্ট ইসলামি দর্শন)
বিশেষতা: আরবি ভাষা, বালাগাত (বক্তৃতা শিল্প), তাফসির, নাহু (ব্যাকরণ)
মৃত্যু: মক্কা মুকাররমায়, হিজরি ৫৩৮ সালে
তিনি আরবি ভাষা ও বাগভঙ্গির উপর অগাধ
পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। “জারুল্লাহ” উপাধিটি তিনি পেয়েছিলেন কারণ তিনি দীর্ঘ
সময় মক্কায় অবস্থান করে হজ্জ এবং ইসলামি জ্ঞানের প্রসারে কাজ করেন।
⌂বিখ্যাত কিতাব:
তাফসির আল-কাশশাফ
মূল নাম:
الكشاف
عن
حقائق
غوامض
التنزيل
وعيون
الأقاويل
في
وجوه
التأويل
বাংলা অর্থ: “নাজিলকৃত কুরআনের গভীর রহস্য উদ্ঘাটন ও তাফসিরের
দৃষ্টান্তসমূহ উন্মোচন”
⌂ কিতাবটির বৈশিষ্ট্য:
1.
বালাগাত ও আরবি ভাষার গভীর
বিশ্লেষণ:
এটি একটি ভাষাগত ও সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত তাফসির। আয়াতের শব্দচয়নের
সৌন্দর্য ও অলংকারের ব্যাখ্যায় এটি অতুলনীয়।
2.
মুতাযিলা মতবাদের ছাপ:
যদিও তিনি মুতাযিলা ছিলেন, এবং তাঁর তাফসিরে যুক্তিবাদ ও মুতাযিলি দৃষ্টিভঙ্গি
রয়েছে, তবুও সুন্নি আলেমগণও এ কিতাবকে ভাষাগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে উচ্চ মর্যাদা
দিয়ে থাকেন।
3.
তাফসিরের নতুন দৃষ্টিকোণ:
আয়াতের ব্যাকরণ, রhetoric এবং বাক্যগঠনের দিক থেকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে তিনি কুরআনের
ভাষাগত সৌন্দর্য উন্মোচন করেছেন।
4.
আলোচনার গভীরতা:
তিনি আয়াতের সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন এবং যুক্তির মাধ্যমে
সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
⌂
দুর্বলতা:
- তাঁর মুতাযিলা আকীদা কখনও কখনও তাফসিরে প্রতিফলিত হয়েছে,
যেমন—আল্লাহর গুণাবলীর ব্যাখ্যায় বা মানবের স্বাধীন ইচ্ছার প্রশ্নে।
- তাই পরবর্তীকালে অনেক সুন্নি আলেম তাঁর তাফসিরের ভাষাগত
দিক গ্রহণ করে আকীদাগত দিক সংশোধন করে আলোচনা করেছেন।
⌂
প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা:
- ইবনে হাজার, ইমাম নাওয়াবী, প্রমুখ আলেম তাঁর
ভাষাগত বিশ্লেষণকে গ্রহণ করেছেন, যদিও আকীদাগতভাবে ভিন্নমত পোষণ করেন।
- অনেক তাফসিরবিদ “কাশশাফ” থেকে ভাষাগত তথ্য ও ব্যাখ্যা
গ্রহণ করে থাকেন।
⌂
সমাপনীঃ
আল্লামা জামাখশারী রহ. ছিলেন একজন অসাধারণ ভাষাবিদ ও
চিন্তাবিদ। তাঁর তাফসিরে কাশশাফ কুরআনের ভাষা ও সাহিত্যিক দিক অনুধাবনের
ক্ষেত্রে এক অনন্য গ্রন্থ। যদিও আকীদাগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তবে
সাহিত্য ও ব্যাকরণে তাঁর অবদান চিরস্থায়ী।
বিঃদ্রঃ
বিঃদ্রঃ
অ্যাসাইনমেন্ট টির তথ্য সংগ্রহ করতে আমি ইন্টারনেট ও চ্যাট GPT এর সাহায্য নিয়েছি
। হাদিস বিভাগের অষ্টম পত্র অর্থাৎ ৬১১১০৮, আল আকিদাতুল ইসলামিয়্যাহ এর
এসাইনমেন্টের কাজ চলছে, কিছুক্ষণ পরেই ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন। সাথেই থাকুন এবং
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, ধন্যবাদ
লেখা ও
সম্পাদনাঃ শরিফুল ইসলাম

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন