কিডনিতে পাথর হলে করণীয়: যা যা করবেন
১. দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- কিডনিতে পাথরের
লক্ষণ দেখা দিলে ইউরোলজিস্ট বা নেফ্রোলজিস্টের শরণাপন্ন হন।
- নিজে নিজে ওষুধ
খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- প্রতিদিন ২.৫–৩
লিটার বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করুন।
- বেশি পানি পান
করলে ছোট পাথর প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে আসতে পারে।
৩. প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান
- আল্ট্রাসনোগ্রাম
(USG)
- CT Scan (প্রয়োজনে)
- প্রস্রাব
পরীক্ষা
- রক্ত পরীক্ষা
(কিডনির কার্যকারিতা যাচাই)
৪. চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত সেবন করুন
- ব্যথা কমানোর
ওষুধ
- সংক্রমণ থাকলে
অ্যান্টিবায়োটিক
- পাথর বের হতে
সহায়ক ওষুধ (যদি প্রয়োজন হয়)
৫. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
- অতিরিক্ত লবণ কম
খান।
- কোমল পানীয় ও
অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন।
- অতিরিক্ত
প্রাণিজ প্রোটিন (গরু, খাসি, লাল মাংস) কম খান।
- চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (পালং শাক, বিট,
চকলেট, বাদাম ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করুন।
৬. প্রস্রাব আটকে রাখবেন না
- সময়মতো প্রস্রাব
করুন।
- দীর্ঘ সময়
প্রস্রাব আটকে রাখলে জটিলতা বাড়তে পারে।
৭. ব্যথা বেশি হলে বিশ্রাম নিন
- প্রচণ্ড ব্যথা
হলে ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।
- প্রয়োজন হলে
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিন।
৮. বড় পাথর হলে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে
- ESWL (শক ওয়েভের মাধ্যমে পাথর ভাঙা)
- ইউরেটেরোস্কোপি
(URS)
- PCNL
- প্রয়োজন হলে
অস্ত্রোপচার
৯. নিয়মিত ফলো-আপ করুন
- চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা করান।
- পাথর সম্পূর্ণ
বের হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন।
কিডনিতে পাথরের সাধারণ লক্ষণ
- কোমরের এক পাশে
বা পিঠে তীব্র ব্যথা।
- ব্যথা তলপেট বা
কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়া।
- প্রস্রাবে রক্ত
দেখা যাওয়া।
- প্রস্রাবে
জ্বালাপোড়া।
- ঘন ঘন
প্রস্রাবের বেগ।
- বমি বমি ভাব বা
বমি।
- জ্বর ও কাঁপুনি
(সংক্রমণ থাকলে)।
কখন জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যাবেন?
- অসহনীয় ব্যথা
হলে।
- প্রস্রাব
একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে।
- উচ্চ জ্বর বা
কাঁপুনি দেখা দিলে।
- বারবার বমি হলে।
- প্রস্রাবে
অতিরিক্ত রক্ত গেলে।
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের উপায়
- প্রতিদিন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- অতিরিক্ত লবণ ও
কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।
- স্বাস্থ্যকর ও
সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম
করুন।
- চিকিৎসকের
পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।
- বছরে অন্তত
একবার কিডনি পরীক্ষা করান, বিশেষ করে আগে
পাথর হয়ে থাকলে।
উপসংহার
কিডনিতে পাথর একটি সাধারণ হলেও অবহেলা করলে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
তাই লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সঠিক পরীক্ষা করানো এবং নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যথাযথ জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে ভবিষ্যতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও
অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
⚠ এই ব্লগের সকল কনটেন্ট লেখকের নিজস্ব এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ (সংশোধিত) দ্বারা সুরক্ষিত।
অনুমতি ছাড়া কপি, পুনঃপ্রকাশ বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই পূর্বানুমতি ও যথাযথ ক্রেডিট প্রদান করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন